ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ , ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একজন গানের কারিগর বিজয় সরকার।

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৬-১৪ ১২:৩৭:০৩
একজন গানের কারিগর বিজয় সরকার। একজন গানের কারিগর বিজয় সরকার।
বিনোদন প্রতিবেদকঃ

জাহিদ হাসান নিশান। হাওরের জল, বাতাস আর মাটির সুর—এই তিন মিলেই যার শিল্প। তিনি বিজয় সরকার। আধুনিক, ফোক আর ক্লাসিক—তিন ধার গানেই সমান স্বাচ্ছন্দ্য। গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী; তিন ভূমিকাতেই তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন সার্থক শিল্পী হিসেবে। ১৯৬৫ সালের ২১ জানুয়ারি, সুনামগঞ্জের হাওরঘেরা জনপদে জন্ম নেন বিজয় সরকার। বাবা যোগেন্দ্র সরকার, মা মাধবী সরকার। হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি, জেলেদের নৌকা, বাউল-ফকিরের গান—শৈশবের এই দৃশ্যপটই তার শিল্পীসত্তার প্রথম পাঠশালা।

মাটির খুব কাছ থেকে বড় হওয়া মানুষটা তাই গানে-সুরে ধারণ করেন পল্লীবাংলার প্রাণ। বিজয় সরকারের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য—তিনি একই সাথে আধুনিক, ফোক এবং ক্লাসিক গানের গীতিকার ও সুরকার। আধুনিক গানে আছে সময়ের কথা, ফোক গানে আছে মাটির টান, আর ক্লাসিক গানে আছে রাগ-রাগিণীর শৃঙ্খলা। নিজে কথা লেখেন, নিজে সুর দেন, আবার নিজের কণ্ঠেই সেই গান তুলে দেন শ্রোতার হৃদয়ে। তার কণ্ঠে একদিকে যেমন আছে হাওরের বাঁশির মায়া, অন্যদিকে আছে আধুনিক মঞ্চের দৃপ্ততা। তাই তরুণ থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সের শ্রোতার কাছেই তিনি প্রিয়। বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে বিজয় সরকারের গান এখন পৌঁছে গেছে বিশ্বের নানা প্রান্তে।

ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মধ্যপ্রাচ্য—যেখানেই বাংলা ভাষাভাষী মানুষ, সেখানেই তার ভক্তের অভাব নেই। প্রবাসীরা তার গানে খুঁজে পান জন্মভূমির গন্ধ। খ্যাতির চূড়ায় থেকেও বিজয় সরকার ভোলেননি নিজের শিকড়। বাবা-মা যোগেন্দ্র সরকার ও মাধবী সরকারের আদর্শই তার চলার পাথেয়। সাক্ষাৎকারে বারবার বলেন, “হাওর আমাকে গান শিখিয়েছে। মানুষের জীবনই আমার গানের মূল উপাদান।” আজকের ডিজিটাল যুগে দাঁড়িয়ে তিনি প্রমাণ করছেন—মাটির গান কখনো পুরনো হয় না।

প্রযুক্তি বদলায়, ট্রেন্ড বদলায়, কিন্তু হৃদয়ের কথা হৃদয়ই ছোঁয়। বিজয় সরকার শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি হাওরবাসীর কণ্ঠস্বর। তার গানে আমরা খুঁজে পাই নিজেদের শিকড়, আমাদের সংস্কৃতি। দেশ-বিদেশের লাখো ভক্তের ভালোবাসা নিয়েই তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন—হাওর থেকে বিশ্বমঞ্চের দিকে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ